প্রতিবেশীদের সাহায্য চেয়েও মেলেনি, সাইকেলে করে মায়ের দেহ সৎকারে নিয়ে গেল ছেলে

1
201
সাইকেলে চাপিয়ে নেয় মায়ের দেহ
পেশায় কৃষক৷ হাতে সেভাবে টাকা নেই৷ এরই মাঝে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন স্ত্রী৷ নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারে অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় করার টাকা ছিল না তাঁর৷ তাই বাধ্য হয়ে মৃত স্ত্রীর কাপড় বাঁধা দেহ কাঁধে নিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটেছিলেন তিনি৷ পিছনে কাঁদতে কাঁদতে হাঁটতে দেখা যায় তাঁর মেয়েকে৷ এই ভিডিও বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ চোখে জল আনা এই ঘটনা জায়গা করে নেয় শিরোনামে৷ ওড়িশার দানা মাঝির অসহায়তার কথা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্রান্তে৷ সেই ঘটনার পর বছরদুয়েক কাটতে না কাটতেই আবারও ওড়িশায় দানা মাঝির ঘটনার পুনরাবৃত্তি৷ ওই কৃষকের পর এবার এক নাবালক সাইকেলে করে মায়ের দেহ নিয়ে গেল শ্মশানে৷
ওড়িশার সুন্দরগড়ের বাসিন্দা সরোজ৷ বছর সাতেক বয়সে বাবা মারা গিয়েছিল তার৷ তারপর থেকে মা জানকী সিংহানিয়াই সংসার চালাতেন৷ বাড়ির কাজ থেকে ছেলের দায়িত্ব সবই একা হাতে সামলাতেন লড়াকু মহিলা৷ এদিন সকালে বাড়ির কুয়ো থেকে জল তুলছিলেন তিনি৷ সেই সময় আচমকাই উঠোনে পড়ে অচৈতন্য হয়ে যান৷ মুহূর্তের মধ্যেই মারাও যান জানকী৷ মা ছাড়া আর কেউই ছিল না সরোজের৷ মা মারা যাওয়ার পর দিশাহারা হয়ে পড়ে সে৷ জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও পাশে পায়নি প্রতিবেশীদের৷ কারণ সে ‘নিচু’ জাতের৷ তাই শ্মশানযাত্রী হিসাবে সরোজকে সঙ্গ দেননি কেউই৷
আরো পড়ুনঃ সুসময়ের বন্ধুরা পাশে নেই মুহিতের
কেউ সঙ্গ না দিলেও, মায়ের সৎকার তো আর ফেলে রাখা যাবে না৷ তাই বাধ্য হয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাপড় দিয়ে মায়ের দেহ মুড়ে ফেলে সরোজ৷ সাইকেলে চাপিয়ে নেয় মায়ের দেহ৷ গন্তব্য চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরের জঙ্গল৷ রাস্তায় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয় তার৷ কৌতূহলীদের নানা প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয় সরোজকে৷ ভেজা চোখেই এই দেহ মায়ের বলে জানায় সে৷ জঙ্গলে গিয়ে মায়ের দেহ সৎকার করে সরোজ৷ ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে আদৌ কি এগোতে পেরেছে সমাজ, ওড়িশার এই ঘটনার পর আরও একবার মাথাচাড়া দিয়েছে সেই প্রশ্ন৷