মৌলভীবাজারে যক্ষ্মা প্রতিরোধে করনীয় শীর্ষক সাংবাদিক মতবিনিময় সভা

0
218
আবুল হায়দার তরিকঃ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে যক্ষ্মা প্রতিরোধে করনীয় শীর্ষক সাংবাদিক মতবিনিময় সভা মৌলভীবাজার শহরস্থ হোটেল রেস্ট-ইন এ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৬ মার্চ শনিবার সন্ধ্যা ৭.৩০ ঘটিকায় যক্ষ্মা প্রতিরোধ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মৌলভীবাজার জেলা নাটাব এর সহ সভাপতি ডাঃ শফিক উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও নাটাব মৌলভীবাজার`র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহীন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শাহজাহান কবীর চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাটাবের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবু তাহের।
এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি বকসি ইকবাল আহমদ, সিনিয়র সহসভাপতি মৌসুফ এ চৌধুরী, সহসভাপতি আমিনুর রশীদ বাবর, এম মছব্বির আলী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সেফুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স ই সরকার জবলু, মাহমুদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক দুরুদ আহমদ, দপ্তর সম্পাদক বেলাল তালুকদার, প্রচার সম্পাদক আবুল হায়দার তরিক, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহফুজ শাকিল, সুলতানুল ইসলাম, জাকির আহমদ, পিন্টু দেবনাথ, মোঃ জহিরুল ইসলাম, মোঃ আবুল কালাম, চৌধুরী মোঃ মেরাজ, মোনায়েম খান, মাহবুবুর রহমান রাহেল, জিতু তালুকদার, শুধাংশু শেখর হালদার, মামুনুর রশীদ চৌধুরী মসু, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, জুয়েল আহমদ প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন যক্ষ্মা কোন মরন ব্যাধি রোগ নয়। নিয়মিত ও পূর্ণ মেয়াদের চিকিৎসা নিলে যক্ষ্মা সম্পুর্ণ ভালো হয়। বিশ্ব পরিসংখ্যানে যক্ষ্মায় আক্রান্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম, এছাড়াও প্রতি বছর যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয় প্রায় ৯২ লক্ষ মানুষ। এর মধ্যে শিশু আক্রান্ত হয় প্রায় ১০ হাজার ১ শত ৭৯ জন।
২০১৮ সালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় যক্ষ্মা আক্রান্ত হয় প্রায় ৪৭৭৮ জন।
এথেকে পরিলক্ষিত মৌলভীবাজার যক্ষ্মা আক্রান্ত এলাকার মধ্যে ভয়াবহ অবস্থানে রয়েছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জন সচেতনতা।
যক্ষ্মা আক্রান্ত অঞ্চলের মধ্যে চা বাগান, বস্তিবাসী, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, নিম্নাঞ্চল ও দারিদ্র্য নিপীড়িত এলাকা উল্লেখযোগ্য।
খৃষ্টপূর্ব ২০০০ বছর হতে যক্ষ্মা রোগের উৎপত্তি। যক্ষ্মা একটি জীবাণু গঠিত রোগ। যক্ষ্মা ২ ধরণের হযে থাকে। ১. ফুসফুসের যক্ষ্মা ও ২. শরীরের যে কোন অংশে হওয়া যক্ষ্মা।
যক্ষ্মা হওয়ায় মূল কারণ প্রোটিনের অভাব। প্রোটিন জাতীয় খাবারের ঘাটতির ফলে মূলত যক্ষ্মা হয়।
যক্ষ্মা রোগের পূর্ণ মেয়াদের চিকিৎসা না নিলে এমডি আর চিকিৎসা নিতে হয়। এতে নিয়মিত কোর্স আর কাজ করে না। এছাড়াও এমডিআর পূর্ণ মেয়াদের চিকিৎসা না নিলে এক্সডিআর চিকিৎসা নিতে হয়। বর্তমানে এমডিআর চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় ৮০০ জন এবং এক্সডিআর চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় ১২ জন।
যক্ষ্মা রোগের পরীক্ষা থেকে শুরু করে সম্পুর্ণ চিকিৎসা সরকার বিনামূল্যে দিচ্ছে। যে কোন হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে গেলে কফ পরীক্ষা করে যক্ষ্মা ধরা পরলে নিয়মিত পূর্ণ মেয়াদের চিকিৎসা নিলে যক্ষ্মা সম্পুর্ণ নিরাময় যোগ্য। এটি কোন সামাজিক ব্যাধি নয়। যক্ষ্মা প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

LEAVE A REPLY