বরবটি চাষে কীটনাশক প্রয়োগে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

788
বরবটি চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে কীটনাশক। কৃষকদের অজ্ঞতা ও কীটনাশক কোম্পানিগুলোর অসম প্রতিযোগিতার কারণে এর ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শও মানছেন না অনেকে। এতে করে একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। অন্যদিকে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও।
বিডিজাগরণ২৪.কমঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন ও বরমচাল ইউনিয়নে প্রচুর বরবটি চাষ হয়। এলাকাবাসীর মতে এক থেকে দেরশত বিঘা জমিতে বরবটি চাষ করা হয়। বরবটি চাষে অবাধে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের। এলাকা বাসীর অভিযোগ বরবটি চাষে দিনে ১-২ বার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এতে একদিকে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে অন্য দিকে দেখা দিচ্ছে অসুখ বিসুখ। কীটনাশক প্রয়োগের সময় বিষাক্ত দুর্গন্ধের কারণে শিশুদের নানা সমস্যা দেখা দেয়, এমনকি এই সময়ে অনেক শিশুরা বমিও করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় ব্রাহ্মণবাজার এবং বরমচাল ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষক বরবটি চাষ করেছে। এর ফলনও ভালো হয়েছে। বরবটি চাষে কৃষকেরা ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ দেখছে। তাই অধিক পরিমাণ ফসল উৎপাদনের জন্য অবাধে সার ও বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগে করছেন।
ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের লীল মিয়া বলেন লোভী (বরবটি) ক্ষেতে সকালে-বিকালে বিষ দেয়, ইতার গন্ধে বাচ্চারা বমি করে, আমরাও বাড়ী ঘরে থাকতাম পারি না। উস্তার মিয়া নামক এক জন বলেন লোভী (বরবটি) ক্ষেতে বিষ দেয়, ইতায় বউত জাতর বেমার-আজার (অসুখ-বিসুখ) হয়। জুবেল আহমদ ও হাসনা বেগম বলেন লোভী (বরবটি) ক্ষেতে বিষ দেয় গন্ধ আমরার বাড়ী ঘরে আয়। ইতায় ক্ষতি করে।
বরমচাল ইউনিয়নের চকেরগ্রামের কৃষক দম্পতী শহীদ আলী ও পারভীন সুলতানা বলেন আমরা লোভী (বরবটি) ক্ষেত করি, নানা ধরণের কীটপতঙ্গের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে ঔষধ দিতে হয়। অনেক সময় দিনে দুই বার ঔষধ দেই। তিনি কয়েক জাতের ঔষধ দেখান।
একই ইউনিয়নে সিঙ্গুর গ্রামে দেখা যায় একাধিক কৃষক নাকে কাপড় বাঁধে বরবটি চাষে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। পশ্চিম সিঙ্গুর গ্রামের কৃষক হারুন আলী, রুবেল মিয়া ও অমিত কুমার দাস বলেন আমরা পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে ফসল বাঁচানোর জন্য ঔষধ দেই। তার পরও পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে ফসল বাঁচানো দুষ্কর হয়ে যায়।
কৃষক সাব্বির উদ্দিন বলেন এখানে কৃষি অধিদপ্তরের কোন লোক আসে না, কোম্পানির লোকজন আসে আমাদের ঔষধ দেয়, আমরা তা ব্যবহার করি। এতে ক্ষতি হয় কিনা আমার জানি না।
কীটনাশক বিক্রেতা অমিত দেব বলেন কোম্পানির কাছ থেকে আমরা কীটনাশক ক্রয় করি এবং কৃষকদের কাছে বিক্রয় করি। কীটনাশক প্রয়োগে পরিবেশের বা মানুষের কোন সমস্যা হয় কি না আমার জানা নেই।
বরমচাল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ আহবাব চৌধুরী বলেন এই বরবটি চাষে কৃষক সাময়িক কিছু টাকা পাচ্ছে। বিনিময়ে এলাকার ক্ষতি-ই বেশী হচ্ছে। ১৫-২০ বছর থেকে আমরা এখানের কোন বরবটি খাই না। সরকার যদি পরিবেশ বান্ধব কোন প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে তাদের পাশে থাকতো তাহলে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেত।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো: শাহাজাহান বলেন, পরিবেশ ও পতিবেশের কথা চিন্তা করে পরিমিত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকি। কীটনাশক কোম্পানির অসম প্রতিযোগিতার কারণে তাদের প্রতিনিধিরা সরাসরি কৃষককের কাছে কীটনাশক প্রযোগের কাজ থাকে। কিন্ত কৃষকরা আমাদের কথা মতো কাজ করে না।