মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

0
224
আবুল হায়দার তরিকঃ মৌলভীবাজার জেলার প্রধান তিনটি নদী, মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা। প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই হয়ে যায় ভয়ংকর। এই বর্ষায় কয়েকবার পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করলেও বর্তমান সময়ে গত ১৩ জুলাই ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে কমলগঞ্জ পৌরসভার একাংশ এবং গত ১৪ জুলাই কুশিয়ারা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে শেরপুর এলাকার বেশ কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরছে।

 

এদিকে মৌলভীবাজার জেলা শহর দিয়ে প্রবাহিত মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে নদী গুলোর পানি বাড়ার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন জেলার নদী পাড়ের বাসীন্ধারা।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার সকল প্রস্তুতি জোরদার করে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
এলাকা বাসীর অভিযোগ বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে তাদের কষ্ঠের কোন সীমা থাকবে না। তারা বলেন গত বছরের বন্যার ক্ষতি এখনো পুষিয়ে উঠতে পারি নি। এখন আবার বন্যার কারণে আমাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পরেছে। প্রশাসনের অবহেলার কারণে আমাদের প্রতি বছর বন্যা কবলিত হতে হয়। ভালো করে বাঁধ মেরামত করলে হয়তো আমাদের প্রতি বছর পানিবন্দি হতে হত না।

 

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তি বলেন টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে মনু নদীর বিভিন্ন জায়গায় পানি বিপদ সীমর উপরে রয়েছে। জেলা শহরের চাদনীঘাট এলাকায় মনুনদীর পানি বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। আমরা বৃষ্টির মধ্যেও সার্বক্ষণিক নদীর বাঁধ পর্যবেক্ষনে রয়েছি। ঝুকিপূর্ণ স্থান সমূহে বালু ভর্তি বস্তাদিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। তার পরেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের (২০১৮) বন্যায় মনু নদীর ২৭ টি স্থানে এবং ধলাই নদীর ১৩ টি স্থানে ভাঙ্গনের ফলে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সদর এই চার উপজেলার মানুষের ঈদ-উল-ফিতর পালন করার আনন্দ নদীর পানিতে কান্নায় ভেসে ছিলো। সামনে আসছে ঈদ-উল-আজহা। জেলাবাসী আবারো সেই ভয়ানক অবনতির কথা চিন্তা করে মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে।

LEAVE A REPLY