সুন্দরী, বাক্‌পটু হলেই নীতিবান হয় নারে…

0
135
রুদ্র মিজান : ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও অনেকেই নীতিতে অটল থাকেন। সমঝোতা না করে, অন্যায়কারীদের সঙ্গে অপোষ না করে অন্ধকার কারাগারকেই বেছে নেন অনেকে। স্বৈরাচার বা অগণতান্ত্রিক সরকারের মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন অনেকে। তারা এমপিও হননি। দেশ, দেশের মানুষের জন্য জীবন বাজি ধরেছেন কত বীর। রাজনীতি করে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি শেষ করেছেন, ত্যাগ করেছেন অনেকে। দলের শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও রাজধানীতে এক খন্ড জমি নেই এমনও আছেন। নিঃসন্দেহে মানুষ তাদের শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে। ভালোবাসাই তাদের বড় অর্জন।
আর যিনি হঠাৎ করেই বাবার পরিচয়ে বা বন্ধুতার সূত্রধরে লাইম লাইটে চলে আসেন। রাজনৈতিক পাঠ নেয়ার আগেই টকশোতে গিয়ে সেলিব্রেটি হন। মানুষ আস্থা রাখে এই প্রদীপ বোধ হয় আলো ছড়াবে। বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্যে নিঃস্ব মানুষগুলো তার কথায় স্বপ্ন দেখে। অতঃপর দলের শীর্ষ পর্যায়ের আর্শীবাদে তিনি এমপি হন।
বলছি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার কথা। বিএনপি নামক বিপর্যস্ত দলটি তাদের দুঃসময়ে সংরক্ষিত আসনে তাকে এমপি বানালো। সেই এমপি জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন। নীতির কথা বলেন। তার কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, সরকারকে অবৈধ বলেন আবার এই সরকারের কাছেই প্লট চান?
তিনি শিখালেন, তিনি রাষ্ট্রের কাছে চেয়েছেন। বলি, রাষ্ট্রটা চালাচ্ছে কে, আপনি যাকে অবৈধ বলেন তারাই। তাদের কাছেই চির কৃতজ্ঞ থাকবেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তিনি যুক্তিহীন কথা বলেন। একটা কথা জিজ্ঞাসা করা হয়নি যে; দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আপনাকে দয়া করে সংসদে পাঠালো, সরকারের কাছে চির কৃতজ্ঞতা থাকার চিঠি লেখার আগে তার/তাদের অনুমতি নিয়েছিলেন কী? চিঠি প্রকাশ হওয়ায় আপনি খুব ক্ষুব্ধ, সবাই নীতি জেনে গেলো তাই না? আপনি চেয়েছেন সবার অজান্তে নিরবেই প্লটটি আপনাকে দেয়া হবে। হয়তো প্লটের বিনিময়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য শীতল করে দিতেন।
ব্যারিস্টার রুমিন, এই বিপর্যস্ত দলটিতে আরও অনেকে ছিলো সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার মতো । যারা রাজনীতি চর্চা করে এসেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণকালেই রাজনীতির পাঠ নিয়েছেন, মাঠে থেকেছেন, এখনও আছেন। তাদেরকে দুরে রেখে আপনাকে সামনে আনার ফলটা ভালোই দিলেন। জানিয়ে দিলেন বোধ হয়, সুদর্শনা, বাক্‌পটু মানেই নীতিবান না।
লেখক : সাংবাদিক

LEAVE A REPLY