৩ গোয়েন্দা কর্মকর্তার সহায়তায় ক্যাসিনো ব্যবসায় কর্মরত নেপালীরা পালালো

0
55
সাম্প্রতিক আলোচনার শীর্ষে থাকা রাজধানীর ক্যাসিনো ব্যবসায় কাজকরা নেপালীদের হোটেল থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইনটেলিজেন্স (এনএসআই) এর তিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। নেপালিদের পালাতে সহায়তাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি সূত্র। নেপালিদের পালাতে সহায়তাকারী এই তিন এনএসআই কর্মকর্তা হলেন, চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার আকতার হোসাইন, দিপংকর এবং আরও এক একজন কনস্টেবল।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত থেকে রাজধানীতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে নেমেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানা যায়, এসব ক্যাসিনোতে কাজ করতেন ১০০’র বেশি নেপালি ও থাইল্যান্ডের নাগরিক। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সূত্র জানায়, বুধবার মতিঝিলের ইয়ংমেনস, ওয়ান্ডারার্স, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র ও বনানীর গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ওই দিন মতিঝিলের তিনটি ক্লাব থেকে অন্তত ১৯ জন নেপালি পালিয়ে গেছে।

 

মতিঝিলের যে ভবন থেকে নেপালিরা পালিয়ে গেছেন সেই ভবনের এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে তিন এনএসআই কর্মকর্তা বাসার মূল গেট দিয়ে ঢোকে। তাদের একজনের হাতে ছিল ওয়াকি-টকি। বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়, এরপর তারা ভবনের পাঁচতলায় একটি ফ্ল্যাটে যায়। সেখান থেকে আধাঘন্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা বের হয়ে আসে। তার পর একে একে ঐ ভবন থেকে নেপালিরা বের হয়ে যান।
এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “শুধু পুলিশ সদস্যরাই ওয়াকিটকি ব্যবহার করে না, গোয়েন্দা সংস্থাসহ বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরাও এটা ব্যবহার করেন। নেপালিদের আত্মগোপনের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন টিম কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভির ছবি পরীক্ষা করে ওয়াকিটকি হাতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সহকারী কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, “তিন কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।” প্রসঙ্গত গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নেপালি ও থাইল্যান্ডের নাগরিকদের দিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে আসছে রাজধানীর ১৫-২০ টি ক্লাব। এভাবে ১০০’ র বেশি বিদেশি নাগরিকদের দিয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিল দেশের ৬ প্রভাবশালী ব্যক্তি।

LEAVE A REPLY