সুনামগঞ্জে তিন বখাটের বিরুদ্ধে মামলা

239
শামীম আহমদ তালুকদার, সুনামগঞ্জ থেকে
সুনামগঞ্জের ছাতকে তিন বখাটের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০০(সং/০৩) এর ৭/১০/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ ব্র্যাক অফিসের দোলারবাজার ইউনিয়ন সুপারভাইজার (স্বাস্থ্য) ও মুক্তারপুর গ্রামের আবদুল হকের স্ত্রী মনতেহা বেগম মুন্নি বাদি হয়ে এ মামলা (নং-২০ তাং-২২.১১.১৯ইং) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর বখাটে ও মামলার অভিযুক্ত আসামিরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বাদি।
জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ ব্র্যাক অফিসের দোলারবাজার ইউনিয়ন সুপারভাইজার (স্বাস্থ্য) কর্মী মনতেহা বেগম মুন্নি অসুস্থ্য স্বামী ও সন্তানদের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্র্যাক অফিসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করে আসছেন। মাস শেষে বেতনের টাকা দিয়ে চলে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসাসেবা, ৪ সন্তানদের লেখা-পড়ার খরচ ও সকল সদস্যদের মুখে খাবার। স্বামী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে অভাবের এ সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। ব্র্যাক অফিসের স্বাস্থ্যকর্মীর চাকুরি নিয়ে অভাবের সংসারে হাল ধরেন এ নারী। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে বাড়ি ফিরে পরিবারের কাজ ও অসুস্থ্য স্বামীর সেবা করে চলে তার সময়। এদিকে তার এ অসহাত্তের সুযোগ কাজে লাগাতে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে পিছু লাগে এবং রাস্তা-ঘাটে চলাচলে উত্যক্ত করে আসছিল মুক্তারপুর গ্রামের মৃত কচির মিয়ার বখাটে পুত্র আবদুল হাই (৩০), একই গ্রামের মৃত আবদুর রুপের বখাটে পুত্র আনোয়ার (২৭) ও মৃত আবদুল গফুরের বখাটেপুত্র আবদুল মজিদ ওরফে কালা রাজা (৩২)। বখাটেদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের অভিভাবকদের নিকট নালিশ দেয়া হলেও উত্যক্ত থামেনি। বরং মান ও সম্ভ্রমহানী ঘটিয়ে এসিড ঢেলে শরির জলসে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল বখাটেরা।
গেল ৬ নভেম্বর বিকেলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বসতবাড়ির সামনের রাস্তায় নির্জন স্থানে পৌঁছা মাত্র পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা বখাটে আবদুল হাই ও আনোয়ার তার সম্ভ্রমহানী ঘটাতে পথ গতিরোধ করে জোর পূর্বক অপহরণ করে তুলে নেয়ার অপচেষ্টা চালায়। এসময় তার সুর চিৎকারে লোকজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরের দিন (৭নভেম্বর) থানায় আবদুল হাই, আনোয়ার ও আবদুল মজিদ ওরফে কালা রাজার নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে বিষয়টি দোলারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান শায়েস্ত মিয়া দেখে দিবেন এমন আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন আ’লীগ নেতা আওলাদ আলী রেজা। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে ১৭ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠকে ডাক দেন চেয়ারম্যান। কিন্তু এ বৈঠকে উপস্থিত হয়নি অভিযুক্ত কোন বখাটে বা তাদের অভিভাবকরা। নিরুপায় হয়ে নির্যাতিতা থানায় ফিরে গেলে এবার ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় মুক্তারপুর গ্রামে মুরব্বিদের নিয়ে দেখে দেয়ার কথা বলেও ওই বৈঠকে কোন সুরাহা হয়নি। নির্যাতিতাকে উপস্থিত না করে চেয়ারম্যানের কাছে কৌশলী জবাব দিয়ে অভিযুক্তরা বৈঠক থেকে চলে যায়। বখাটেদের বাঁচানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠে একটি স্বার্থান্বেষি মহল। নিস্পত্তির নামে ক’দিন চলে অদৃশ্য কোন এক নাটকের শুটিং। অবশেষে কোন উপায়ান্তর না পেয়ে সু-বিচার প্রাপ্তির আশায় থানা পুলিশের কাছে ফিরে গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করে ঘটনাস্থলে তদন্তে যান থানা পুলিশের এসআই লিটন। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টির সত্যতা বেরিয়ে আসে এবং এজাহারটি এফআইআর করে মামলা হিসেবে গণ্য হয়।
বাদি জানান, আবদুল মজিদ কালা রাজার সহযোগিতায় বখাটে আবদুল হাই ও আনোয়ার তার সাথে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হলে এসিড ঢেলে শরির জলসে দেয়ারও হুমকি দেয়। ঘটনার দিন ওৎপেতে থাকা বখাটেরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে তুলে নিয়ে সম্ভ্রমহানীর অপচেষ্টা চালায়। তাকে রাস্তায় টানা হেচড়া করে শ্লিতাহানী ঘটনায়। এসময় তিনি বখাটেদের জুতাপেটা দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। শেষে সুর চিৎকার দিলে বখাটেরা চলে যায়। তিনি আরো বলেন, দায়ের করা মামলা তুলে আনার জন্য বখাটেরা বিভিন্ন ভাবে সম্ভ্রমহানী ঘটিয়ে হত্যা ও এসিড নিক্ষেপ করে শরির জলসে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে যে কোন সময় সংঘবদ্ধ বখাটেরা তার এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বড় ধরণের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বাদি। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই লিটন বলেন, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।