মৌলভীবাজারে প্রবীণদের আড্ডাস্থল প্রবীণাঙ্গন

0
93
মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার শহরের পৌর জনমিলন কেন্দ্রে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে এবং ব্যক্তি পর্যায়ের অনুদান নিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের আড্ডা ও বিনোদনের জন্য সুস্বজ্জিত ভাবে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে তৈরী করা হয়েছে ‘প্রবীণাঙ্গণ’। শুধু অপেক্ষা ছিলো উদ্বোধনের। অবশেষে ৩০ নভেম্বর প্রবীণ নাগরিকদের আড্ডাস্থল ‘প্রবীণাঙ্গণ’ উদ্বোধন করলেন পরিকল্পনা এম এ মান্নান এমপি। এর মধ্য দিয়ে খোলে দেওয়া হলো শহরের প্রবীণ নাগরিকদের আড্ডা ও বিনোদনের এই মনোমুগ্ধকর অঙ্গনটি।
মৌলভীবাজার পৌরসভার সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়ন এবং ব্যক্তি পর্যায়ের অনুদান থেকে এই স্থানটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকরা সকাল ও বিকেলে এখানে এসে ঘুরে, আড্ডা দিয়ে, বই পড়ে, খেলাধুলা করে সময় কাটাতে পারেন। স্থানটিকে দৃষ্টিনন্দন করতে লাগানো হচ্ছে বকুল, রাধাচুড়া, কৃষ্ণচুড়া, টেকোমা. স্থলপদ্ম হাস্নাহেনাসহ নানারকম মৌসুমি-স্থায়ী ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের ফুল।
তিনটি কক্ষকে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। এই কক্ষের একটির মধ্যে থাকবে পাঠাগার। এতে সবধরনের বই থাকবে। থাকবে টেলিভিশন। একটি কক্ষ থাকবে বিশ্রামের জন্য। এতে দুটি শয্যা থাকবে। বয়স্ক নাগরিকরা হাঁটাচলা ও খেলাধুলা করে ক্লান্ত হলে এখানে বিশ্রাম নিবেন। প্রবীণ নারীদের জন্য থাকবে একটি কক্ষ। এই কক্ষে নারীরা বিশ্রাম নিবেন, আড্ডা দিবেন। এর বাইরে তিনটি শেড স্থাপন করা হয়েছে। এতে বেঞ্চ থাকবে। যাতে এখানে বসে আড্ডা দেওয়া যায়। এছাড়া মুক্ত স্থানে আছে বসার বেঞ্চ। যার যেখানে খুশি বসতে পারবেন, সময় কাটাতে পারবেন। থাকবে পত্রিকা পড়ার কর্ণার। কফি-চা কর্ণারও থাকবে।
ভোর থেকে সকাল ৯টা এবং বিকেল চারটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত স্থানটি প্রবীণদের জন্য খোলা রাখা হবে। নতুন করে সাজানো অংশটি জনমিলন কেন্দ্রের মূল ভবন থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। যাতে জনমিলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানাদি হলেও এখানকার আড্ডায় কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়।
মেয়র ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এদিন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মল্লিকা দে, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানসহ পৌর নাগরিক, বিভিন্ন পেশাজীবি এবং সমাজের বিশিষ্টজনদের। থাকবেন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাও।
প্রবীণাঙ্গন সম্পর্কে পৌর মেয়র ফজলুর রহমান জানান, ‘এক সময় তাঁরা যৌবনের পুরোটা দিয়েছেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে। তাঁদের পেছন ফিরে তাকানোর সময় ছিল না। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তাঁরা সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। প্রকৃতির নিয়ম একসময় তাঁদের বার্ধক্যের কাছে নিয়ে যায়। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আগে যেখানে তাঁদের হাতে একদ- দাঁড়ানোর অবসর ছিল না, এখন তাঁদের হাতে অফুরন্ত অবসর। কিন্তু বয়সের ভার, বার্ধক্যজনিত রোগ-ব্যাধি তাঁদেরকে সীমিত পরিসরে আটকে রাখে। চাইলেই তাঁরা সবখানে যেতে পারেন না। কোথাও বসে নির্মল আড্ডা দিতে পারেন না। যদিও এই সময়টিতেই তাঁদের আরও বেশি নিকটজনের সঙ্গ ও সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা।

LEAVE A REPLY