মৌলভীবাজারে স্মার্ট পশুর হাট : কিভাবে নিচ্ছেন ক্রেতা বিক্রেতা

405
আবুল হায়দার তরিকঃ
দেশে চলছে মহামারী করোনাভাইরাসের তান্ডব, জুনের মাঝামাঝি সময় থেকেই বাংলাদেশে মহামারী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে সামনে ঈদ-উল আজহা বা কোরবানির ঈদ। সমস্ত মুসলিম উম্যাহ ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবান করে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে।
প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিশাল আকারের পশুর হাট বসে। ছোট-বড় প্রতি বাজারে হাজার-হাজার লোক সমাগম হয়। অনেকে আত্মিয় পরিজন নিয়ে বাজারে গিয়ে পছন্দের পশু ক্রয় করেন।
কিন্তু এবার মহামারী করোনা ভাইরাসের তান্ডবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাদ্যবাদকতা রয়েছে। গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করনে। এই পরিস্থিতিতে হাট বাজারে হাজার-হাজার লোক সমাগম মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে পরে।
তাইতো মৌলভবিাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান উদ্যোগ নিয়েছেন অনলাইনে পশুর হাট পরিচালনার। ইতিমধ্যে “স্মার্ট হাট” নামে ফেইসবুক পেইজে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের প্রচার প্রচারনা চলছে। ধারনা করা হচ্ছে এতে স্বাস্থ্যবিধিও বজায় থাকবে এবং মানুষ ছবি ও ভিডিও দেখে নিজেদের পছন্দমত পশুও ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।
ফেইসবুক পেইজ ভিত্তিক এই পশুর হাটের মূল কাজ হচ্ছে বিক্রেতার সাথে ক্রেতার যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া। ছবি ও ভিডিও দেখে ক্রেতা বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করবে। এতে কোন ধরনের সমস্যার মুখমুখি না হতে উপজেলা ভিত্তিক হট লাইনের ব্যবস্থা রয়েছে। যাতে ফোন করে ক্রেতা বা বিক্রেতা আইনি সহায়তা বা নিরাপত্তা নিতে পারবেন।
স্মার্ট হাট কিভাবে দেখছেন কৃষক ও খামারিরা। তার উত্তর খুজতে আমরা গরু খামারি ও কৃষকদের কাছ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি জানার চেষ্ঠা করি। যোগাযোগ করি বেশ কয়েকজন খামারি ও কৃষকদের সাথে। অধিকাংশ কৃষকই জানান উদ্যোগ ভালো গরু বিক্রয়ের পোস্ট দেয়ার ১ থেকে ২ দিন অতিবাহিত হলেও কোন সারা পান নি।
কুলাউড়ার খামারি আব্দুল খালেদ নূর ৬শ কেজি ওজনের নেপালী জাতের গরুর পোস্ট দিয়ে দাম চান ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। তিনি ২-৩ জনের সারা পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খামারি জয় আহমদ ৪৯২ কেজি ওজনের গরুর পোস্ট দিয়ে দাম চান ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। তিনি দুদিনেও কোন ক্রেতা সাধারণের সারা পাননি।
কথা বলি আরেক কৃষক চন্দন কর এর সাথে, চন্দন কর আড়াই মণ ওজনের দেশি জাতের একটি গরু পোস্ট করেন। দাম চান ৬০ হাজার টাকা। দুদিনে কোন ক্রেতার সারা পাননি।
শ্রীমঙ্গলের খামারি রাকিব মিয়া ১৪শ কেজি ওজনের হলস্টিয়ান ফিজিয়ান জাতের গরুর ভিডিও দিয়ে ৭ লক্ষ টাকা দাম চান। পোস্ট দেয়ার দুদিন অতিবাহিত হলেও তিনি ক্রেতা সাধারণের কোন সারা পান নি।
অনলাইনে পশু বিক্রয় বিষয়টি ক্রেতা সাধারণ কিভাবে দেখছেন, এবিষয়ে জানতে কথা বলি বেশ কয়েকজন কোরবানির পশু ক্রেতার সাথে। অনেকেই বলেন বিশ্বস্ততার জায়গা তৈরি করতে হবে। নতুবা অনলাইনের পশুর হাট মানুষের জন্য হযরানিমূূলক হয়ে পরবে।
কুলাউড়া রবিরবাজারের রিমি টেলিকমের সত্মাধিকারী রুবেল আহমদ বলেন করোনাভাইরাসের মহামারিতে অনলাইনে পশুর হাট প্রসংশনীয় উদ্যোগ। কিন্তু ভাইরাস জনিত রোগবালাই ও লেনদেনের ব্যপারে আমাদের ভাবীত করছে।
বিআরটিএ মৌলভীবাজার এর মোটরযান পরিদর্শক মোঃ হাফিজুল ইসলাম খান বলেন অনলাইনে ভিডিও ও ছবি দেখে পশু ক্রয়ের মাধ্যম ভালো, কিন্তু লেনদেনের বিস্বস্ততা ও পশুর রোগবালাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
গরুর রোগবালায়ের নিরাপত্তা নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মাছুদার রহমান সরকার বলেন প্রত্যেকটি পশুর হাটে আমাদের ভেটেরিনারী টিম থাকবে। অনলাইনে “স্মার্ট হাট” আমাদের প্রতি উপজেলার ভেটেরীনারী অফিসাররা রযেছেন। যদি কোন ক্রেতা আমাদের সহযোগিতা চায় তাহলে আমরা সেখানে সহায়তা দিবো।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান গরুর রোগবালাই ও রড় পরিমানের লেনদেনের নিরাপত্তা জনিত প্রশ্নের জবাবে বলেন খুব কম সময়ে আমরা অনলাইনে পশুর হাট চালু করেছি। ক্রেতা খামারিদের সাথে যোগাযোগ করে গরু ক্রয়ের পর্যায়ে গিয়ে আমাদের হট লাইন নম্বরে যোগাযোগ করলে আমরা প্রাণী সম্পদ অফিসারদের নিয়ে গরু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ব্যবস্থা করবো। এছাড়াও বড় পরিমানের লেনদেনে হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করলে জেলা পুলিশ সহায়তা দিবে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের সাথে আমরা কথা বলে স্মার্ট হাট চালু করেছি।