দেরযুগ থেকে ফাইলবন্ধি মুরাইছড়া ইকোপার্ক প্রকল্প

249
আবুল হায়দার তরিকঃ মুরইছড়া ইকো পার্ক প্রকল্প ১৯ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম ইকো পার্ক বাস্তবায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তৎকালীন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন হলেও স্থানীয় খাসীয়া সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে এর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত ১৯ বছরেও প্রকল্পের আর কোন কাজ হয়নি। প্রকল্পটি চালু করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় জনগন।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে মুরইছড়া বিটের পৃথিমপাশা একোয়ার্ড ফরেস্টের লুথিটিলার পাদদেশে মুরইছড়া ইকো পার্কটি অবস্থিত। ৮৩০ একর এলাকাটিতে বিভিন্ন ধরনের চিরসবুজ পাহাড়ী ও প্রাকৃতিক গাছ-বাঁশে ভরপুর। এর সাথে হরিণ, বাঘ, বনমোরগ, বন্যহাতি, বানর বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখা যায়। মুরইছড়া উপলীয়াসং জলপ্রপাত সহ জীব-বৈচিত্র ও চা বাগান বেষ্টিত প্রকৃতির কারনেই এলাকাটি পর্যটকদের আকর্ষনীয় স্থান। ২০০১ সালে দেশের প্রথম প্রস্তাবিত ইকো পার্ক হিসেবে মুরইছড়া ইকো পার্ক বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় পাঁচ কোটি দুই লাখ ৩২ হাজার টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিলের অর্থায়নে ইকো পার্ক স্থাপন প্রকল্পের অধীনে এর কার্যক্রম শুরু হয়। কাজ শুরু হলেও পাহাড়ে বসবাসকারী খাসিয়াদের প্রতিবাদ- আন্দোলনের মুখে স্থবির হয়ে পড়েছে। ইকো-পার্ক স্থাপন হলে স্থানীয় জনগন সহ খাসী ও গারো সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থান আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর মুরইছড়া ইকো-পার্ক দেশী-বিদেশী পর্যটকদের জন্য একটি প্রাকৃতিক চিত্ত-বিনোদনের কেন্দ্র এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তিন স্তরের ঝর্ণাটি পর্যটকদের কাছে আকষনীয় স্থান হতে পারে।
মুরাইছড়া ইকোপার্ক পরিদর্শন করা তাজুল ইসলাম বলেন পার্কটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু মানুষের কর্মসস্থান সৃষ্টি হবে। আবুল হায়াত তায়েফ বলেন মুরাইছড়া ইকোপার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ৩ স্তরের ঝর্ণা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। পার্কটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন পিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হবে এটি। এলাকার বাসিন্ধা লায়েক আহমদ বলেন মুরাইছড়া ইকো পার্ক বাস্তবায়ন হলে সরকারের একটি রাজস্বখাত বৃদ্ধি পাবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসবে পার্কের পকৃতি দেখে পুলকিত হবে।
মুরাইছড়া রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তারা অর্জুন কান্তি দস্তীদার জানান খাসিয়া আধিবাসীদের কারণে ইকো পার্কের কাজ বন্ধ রয়েছে, পার্কটি বাস্তবায়ন হলে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় করতে পারবে।
১৩ নং কর্মধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিক জানান চার দলীয় জোট সরকালের সময়ে পার্কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের টাকা কোথায় গেছে জানা নেই। স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারের কাছে মুরাইছড়া ইকোপার্কের প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবী জানান।
ইকো পার্ক বিষয়ে বন মন্ত্রণালয়ে সচিবের সংগে কথা বলবেন বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রাণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার। তিনি বলেন পার্কের পাশবর্তি কালাপাহার পর্যন্ত সাম্প্রতিক পরিদর্শন করেছি। পার্ক বাস্তবায়নে বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের সচিবের সাথে কথা বলে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগীতা করবো।
মুরইছড়া ইকো-পার্ক প্রকল্পটি চালু হলে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পাবে এমনটা প্রত্যাশা স্থানীয় জনগনের।