বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুঁজিবাজারে অতীতের অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্নীতি তদন্তের জন্য একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। পাশাপাশি, বাজারের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে একটি সংস্কার টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়। অনুসন্ধান কমিটি ১২টি বিষয়ের মধ্যে ছয়টির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তবে সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি, যদিও কমিটি গঠনের সময় প্রতিবেদনের প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, টাস্কফোর্স মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত দুটি সংস্কার সুপারিশ জমা দিয়েছে।
বিএসইসির তথ্যমতে, অনুসন্ধান কমিটি বেক্সিমকো গ্রিন-সুকুক আল ইসতিসনা, আইএফআইসি গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড, বেস্ট হোল্ডিংস, আল আমিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরচুন সুজ লিমিটেড ও কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম চলছে।
২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএসইসি ১২টি অনিয়মের তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে আছেন ড. জিয়া উদ্দিন আহমেদ। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ইয়াওয়ার সাঈদ, মো. শফিকুর রহমান, ব্যারিস্টার মো. জিশান হায়দার ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বিএসইসি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। পরবর্তী সময়ে এর কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ‘পুঁজিবাজার সংস্কার ফোকাস গ্রুপ’ গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সদস্যরা হলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কেএএম মাজেদুর রহমান, এএফএম নেসার উদ্দীন, অধ্যাপক মো. মোস্তফা আকবর ও সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন।
টাস্কফোর্স এরই মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০০১ এবং মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর হালনাগাদ বিষয়ে সুপারিশ জমা দিয়েছে। তারা ১৭টি কার্যপরিধির আওতায় কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও সুপারিশ দেবে। বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন ও সংস্কার নিশ্চিত করতে টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও বাজারের স্থিতিশীলতা বিবেচনায় রেখে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম চালানো হবে।